রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা; গড়েছেন সম্পদের পাহাড়! 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪, ৫:৩৫ পিএম
মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা; গড়েছেন সম্পদের পাহাড়! 

ময়মনসিংহ নগরীর নিজ মহল্লায় টানা প্রায় ৯ বছর ধরে নানা দপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী। নিজ নগরীর অধিবাসী হওয়ায় ঘুষ দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় মানুষ অতিষ্ট হলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি কেউ। চতুর ইউসুফ আলী দুর্নীতির সাম্রাজ্য চালাতে গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের ম্যানেজ করেই তিনি এই নগরে দীর্ঘ সময় পার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

জানা গেছে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর পৈত্রিক বাড়ি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ডপা এলাকায়। তা সত্ত্বেও ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর পরবর্তীতে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (ন্যাপ) এ কর্মরত থেকে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৯ বছর যাবৎ নিজ বাড়ির সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরীর সুবাদে থেকে এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ করেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ অর্থ দিয়ে ময়মনসিংহের তৈমুর এক্সেল টাওয়ারসহ ঢাকায় করেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। স্ত্রী সন্তানদের নামেও রয়েছে একাধিক সম্পদ। এই অবৈধ সম্পদের সরকারি কোন হিসাব না থাকায় ফাঁকি দিচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউসুফ আলী ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৫ জানুয়ারি ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক অনিয়ম। বৃহত্তম এই নগরীতে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে শত শত বহুতল ভবন। নকশা বহির্ভূতভাবে একের পর এক বহু্তল ভবন তৈরি করে সৃষ্টি হচ্ছে মরণফাঁদ। যার নেপথ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী। ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন এ নিষেধ থাকলেও প্রধান নির্বাহীর উদ্যোগে বেআইনিভাবে দেয়া হয় বহুতল ভবনের নকশার অনুমোদন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন নিয়ম নীতি না মেনে নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন ইউসুফ আলী। কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই এসব অভিযোগ তাদের নিত্যদিনের ঘটনা।

 

সিটি কর্পোরেশনের ব্যয়বহুল বাজেটে নিম্ন মানের রাস্তা ঢালাই, ড্রেননির্মাণ করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।ইউসুফ আলীর নির্দেশে সিটি কর্পোরেশন থেকে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও মিশুকের লাইসেন্স নিতে ও নবায়নে চরম মুল্য পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রায় শতাধিক লোকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মাস্টার রোলে চাকরি দিয়ে দুর্নীতি করে অবৈধ টাকার মালিক হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি নানা দাপটে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং কি মেয়রের ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে ছাত্র-জনতা তাকে লাঞ্ছিত করে। ময়মনসিংহবাসীর দাবি ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষের হিসেবে তাকে চাকরিচ্যুত করা। তবে তা না করে তাকে আবারও সেই ময়মনসিংহেই বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে নিয়োগের গুঞ্জন এখন মুখে মুখে এবং টক অফ দ্যা ময়মনসিংহ।

 

নাগরিকরা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমান ও ময়মনসিংহের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার কাজী আনোয়ার হোসেনের কাছে ময়মনসিংহবাসীর দাবি এই ফ্যাসিস্ট আর ময়মনসিংহে যাতে যোগদান করতে না পারে। যোগদান করলে ময়মনসিংহের ছাত্র-জনতা ঝাড়ু মিছিল করবে বলে হুমকি দিয়েছেন।

 

অপরদিকে সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় সরকার ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।যার অধিকাংশ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

 

এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৭৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৪৫ কিলোমিটার নালা (ড্রেন) ও প্রায় ১৭ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ করার কথা। প্রকল্পের আওতায় আরও রয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল ও ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার সড়ক বিভাজক, ৩টি সেতু, ১৩টি কালভার্ট ও ৬টি পদচারী–সেতু নির্মাণের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

তবে এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে না বলে নগরবাসী মন্তব্য করেছেন।

 

এই দুর্নীতিবাজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে দুদকের আওতায় এনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উন্মোচন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সি পার্লের সাগরবিলাসে ডুবছে রাষ্ট্রীয় অর্থ!

চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে এবার সামনে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। মানুষের আমানতের টাকা নিয়ে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। তিনি সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৭ সালে আইসিবিকে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ৮ বছর মেয়াদি ওই বিনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সি পার্ল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখনো পাওনা আইসিবির।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু কিস্তি খেলাপিই নয়, বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তও লঙ্ঘন করেছে সি পার্ল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ২০ শতাংশ শেয়ার রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণও সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে আইসিবির বিনিয়োগ কার্যত অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি বিলম্বে কিস্তি পরিশোধের অতিরিক্ত সুদের শর্তও নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বছরজুড়ে পর্যটকে ভরা ও রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা একটি রিসোর্ট কেন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে না? আইসিবির একাধিক সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির এক কর্মকর্তা জানান, সি পার্ল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় আইসিবি নিজেও আর্থিক চাপে পড়েছে।

সি পার্লের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে কারখানা দখল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে কীভাবে শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ অনুমোদন পেল? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে দেশের আর্থিক খাত কতটা জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সি পার্লের এই বন্ড কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের একটি সুপরিকল্পিত চিত্র, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব এবং আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অপরদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেগুলোর সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও ঘটনাস্থলের আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:৩৩ এম
ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

ময়মনসিংহে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে আকাশ নামে এক যুবকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার তারাকান্দা উপজেলা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় চৌকস উপ-পরিদর্শক (এস আই) আজাদ ও সংগীয় ফোর্সের পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক আকাশ বিভিন্ন সময় নিজেকে ক্রেতা বা পরিচিত ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত। তার স্ত্রীও এ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আটক আকাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেল বা মূল্যবান সামগ্রী হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।