সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রহস্যময় তাপস, জাদুর কাঠিতে বদলে ফেলেছেন জীবন!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪, ২:৪৭ এম
রহস্যময় তাপস, জাদুর কাঠিতে বদলে ফেলেছেন জীবন!

কৌশিক হোসেন তাপস, নামের পাশে একাধিক উপাধি যার। কখনো গায়ক, কখনো সুরকার আবার কখনো সংগীত পরিচালক তিনি। পাশাপাশি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী। দাবি করা হয়, বাংলাদেশের একমাত্র সংগীতনির্ভর চ্যানেল সেটি।

 

যেই চ্যানেলে হরহামেশাই দেখা মিলত তারকাদের। রাতভর চলত আড্ডা, গান ও নানা আয়োজন। আড্ডার মধ্যমণি হতেন তাপস ও তার স্ত্রী ফারজানা মুন্নী। মূলত স্ত্রীর হাত ধরেই রাতারাতি একের পর এক সিড়ি টপকে উত্থান হয় এই গায়কের। সামান্য একজন তবলা বাদক থেকে মিডিয়া মাফিয়া বনে যান তাপস।

 

মিডিয়াতে তার চরিত্রটাই ছিল বেশ ‘রহস্যময়’। একসময়ের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কর্মচারী থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে নিজেই একটি চ্যানেলের মালিক বনে যান। এসবের পেছনে তার চতুরতা যেমন ছিল, একইভাবে ‘জাদুর কাঠি’র ব্যবহারও ছিল

সেই জাদুর কাঠি ছিল তাপসের স্ত্রী ফারজানা মুন্নী। যিনি রূপচর্চা ও ফ্যাশন এক্সপার্ট হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিউটিশিয়ান হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। স্ত্রীকে ব্যবহার করেই আওয়ামী সংস্কৃতি অঙ্গনের আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তাপস। একসময় দলটির রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত হন তিনি। অভিযোগ আছে, গান বাংলার নাম করে ইউক্রেন ও বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে নারী এনে তাদেরকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত করতেন তাপস। এভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি।

তাপসের বিয়ে নিয়েও শোনা যায় নানা গল্প। বয়সে বড় ফারজানা মুন্নিকে সন্তানসহ বিয়ে করেন তিনি। মুন্নিকে বিয়ের আগে তার বড় মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন তাপস। সেই সুবাদে নিয়মিত দেখা হতো তাদের। একপর্যায়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন দু’জন।

 

বিয়ের পর নিজেদেরকে মিডিয়ার ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তাপস-মুন্নি। যেকোনো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন, সকল ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন এই দম্পতি।

 

প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েও নিজের অপকর্ম চালিয়ে গেছেন তাপস। ২০২২ সালের মার্চে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকায় সানি লিওনকে নিয়ে আসেন তিনি। সেসময় তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে জানানো হয়েছিল, সানি লিওনের বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কিন্তু নিজের মেয়ের বিয়েতে এই বলিউড তারকাকে নাচাবেন বলে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই ঢাকায় সানি লিওনকে নিয়ে আসেন তাপস। ১৩ ঘণ্টার সফর শেষে কোনো বাধা বিপত্তি ছাড়াই দেশ ছাড়েন অভিনেত্রী।

 

এতকিছুর মাঝেও কৌশিক হাসান তাপস ও ফারজানা মুন্নির মধুর সংসারের ফাটল প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের শেষের দিকে। যখন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ফারজানা মুন্নির একটি কলরেকর্ড ফাঁস হয়।

 

ওই কলরেকর্ডে মুন্নিকে বলতে শোনা যায়, তাপস অভিনেত্রী শবনম বুবলীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাদের দু’জনকে হাতেনাতেও ধরেছেন তিনি। মুন্নি আরও দাবি করেন, বুবলী তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করছে।

তবে প্রতিবারের মতো এই ঘটনাও দারুণভাবে সামলে নেন তাপস। কিছুদিন পরই স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে দাবি করেন, তাদের মাঝে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর মতো কোনো কাজ তিনি করেননি।

 

তাপসের অপকর্মের ফিরিস্তির এখানেই শেষ নেই। অভিযোগ আছে, গান বাংলা চ্যানেলটি আবৃত্তিশিল্পী রবিশঙ্কর মৈত্রীর হলেও জোর করে ভাগিয়ে নেন তাপস। ২০১১ সালের ২৪শে অক্টোবর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে গান বাংলা টেলিভিশনের লাইসেন্স পান রবিশঙ্কর। ২০১২ সালের পহেলা জুলাই কৌশিক হোসেন তাপস আর ফারজানা মুন্নী ৮০ লাখ টাকায় শেয়ার হোল্ডার হিসেবে গান বাংলায় যুক্ত হয়েছিলেন। একটা সময় রবিশঙ্করকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গান বাংলার সবকিছুই নিজের করে নেন তাপস-মুন্নী।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে কনসার্ট আয়োজনের কাজও বাগিয়ে নিতেন তাপস। সেসবের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন আয়োজিত লাল-সবুজের মহোৎসব, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান অন্যতম। সেখান কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

 

আর এসব কাজে অধিকাংশ সময়ই তাপস ব্যবহার করতেন তার জাদুর কাঠি ‘ফারজানা মুন্নি’ ও চ্যানেলের নাম করে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন তরুণীদের।

 

মুন্নির সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সখ্যতা, বিশেষ করে শেখ হাসিনার ‘আস্থাভাজন’ পরিচয় কাজে লাগানো ও বিদেশি তরুণীদের দিয়ে ‘মনোরঞ্জন’-এর ব্যবস্থা করা ছিল এই ধূর্ত মিডিয়া মাফিয়ার অন্যতম হাতিয়ার।

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল  ‎

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। সোমবার অনুষ্ঠিত এই সভায় রেঞ্জের নিয়মিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাদের হাতে এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা। পর্যালোচনা সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা নিষ্পত্তি, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের মূল্যায়ন এবং এটি দায়িত্ব পালনে পেশাগত উৎসাহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জনের পেছনে ধোবাউড়া থানার প্রতিটি সহকর্মীর নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। তাই এই অর্জন আমি থানার সব সহকর্মীর প্রতি উৎসর্গ করছি।

‎তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি ও তাঁর পুরো টিম ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়, অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি ট্রান্সফরমার। এতে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় আকস্মিক ঝড়টি আঘাত হানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে এলাকার বহু বসতঘরের চালা উড়ে যায়। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে সড়কটি সচল করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পর থেকেই বিদ্যুৎহীন রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলামের বসতঘর ও রান্নাঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ঘরের বিভিন্ন অংশ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে টিন ও কাঠের খুঁটি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে নতুন ভিটায় ঘর করেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমাকে সহযোগিতা করলে খুব উপকার হতো।’

গোরকপুর ও পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধবা রাহিলার বসতঘরও ঝড়ে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। অনেক কষ্টে দিন কাটে। ঝড়ে আমার ঘরটাও ভেঙে গেছে। আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।’

ঝড়ের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল। হঠাৎ ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার সময় ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রুবেলের স্ত্রী রেনুয়ারা বলেন, ‘ঝড়ের সময় ঘরের খুঁটি ভেঙে পড়ে আমার স্বামী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পশ্চিম পাবিয়াজুরীর বাসিন্দা আজি রহমানের বসতঘর ও গোয়ালঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ঘরের চারটি চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালঘরে থাকা একটি গরুর পা কেটে গেছে। এ ঘটনায় তার দুই ছেলেও আহত হয়েছেন।

গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন। একটি টিম ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপির সাবেক সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় হয়েছে। সকাল থেকেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।

‎ময়মনসিংহে সৌখিন পরিবহনের বাসে আগুন, নাশকতার সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
‎ময়মনসিংহে সৌখিন পরিবহনের বাসে আগুন, নাশকতার সন্দেহ

‎ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৌখিন পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে আগুনে কেউ হতাহত হননি।

‎খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

‎ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

‎অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বাসটিতে বাইরে থেকে কেউ আগুন দিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

‎ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে কেউ আগুন দিয়ে থাকতে পারে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‎এদিকে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মাসকান্দা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

‎পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা জানতে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জব্দ করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

‎তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনায় কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।