শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে: জিএম কাদের

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০২৪, ৪:০৮ পিএম
আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে: জিএম কাদের

‘দেশ ভালো নেই’ মন্তব্য করে ‘আন্দোলন, কর্মসূচি চলবে’ বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে।

 

আগামীকাল শনিবার (২ নভেম্বর) জাতীয় পার্টি পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ করবে বলেও জানান তিনি। জি এম কাদের বলেন, আমরা মরতে এসেছি, আমরা মরতে চাই, কত মারবে তোমরা আমরা দেখতে চাই।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ‘জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জিএম কাদের আরও বলেন, আল্লাহ আমাদের প্রটেকশন দিচ্ছেন বলে এখনো বেঁচে আছি, অন্য কারও প্রটেকশনে নয়। বিচারের জন্য যদি আল্লাহর সাহায্যের দিকে চেয়ে থাকতে হয় তাহলে দেশ কীভাবে চলবে। আমরা একদিনের ডেমোক্রেসি চাই না। সব সময়ের ডেমোক্রেসি চাই। আমরা চাই সরকার হবে- ‘অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’।

 

তিনি বলেন, আমরা দেশের জনগণের পাশে ছিলাম, সবসময় থাকবো। আমার পরবর্তী প্রজন্ম এলেও জাতীয় পার্টি জনগণের পাশে থাকবে এবং একইভাবে এগিয়ে যাবে। আমাদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দুই তারিখের কর্মসূচি চলবে। আমাদের কর্মসূচি ও আন্দোলন সবই চলবে নিয়মতান্ত্রিক এবং অহিংসভাবে।

 

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশটা এখন ভালো অবস্থায় নেই। শেখ হাসিনা দেশটাকে যেভাবে বিভক্তি করেছিলেন এখন একইভাবে বিভক্তি করা হচ্ছে। এখন হাজার হাজার মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, উনারা যা বলে তা-ই সঠিক, বাকি সবাই ভুল। উনারা এখন বিচারকার্যেও গিয়ে বাধা দেয়। উনাদের ইচ্ছা হলো আমাদের অফিস ভেঙে দিয়ে গেল। কারও যদি ভুল হয় সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার অনেক উপায় আছে, তাই বলে তাকে ধ্বংস করে দেবেন, এটা কেমন হবে।

 

জিএম কাদের বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরা সবসময় সমর্থন জানিয়েছি। তাদের পক্ষে সে সময় অনেক কথা বলেছি, বিবৃতি দিয়েছি। যে কারণে আমার অনেক ক্ষতিও হতে পারতো। কিন্তু এসব কিছুর পরোয়া আমরা করিনি। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায় অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

‘আমি এখন বলছি, জাতীয় পার্টি একটি জনগণের রাজনৈতিক দল। হয়তো সারাদেশে আমাদের অবস্থান কিছুটা কম আছে, তবুও আমরা টিকে আছি। চাপে গর্তে ঢুকে গেলেও বারবার জাতীয় পার্টি উঠে দাঁড়ায়, এটাই অনেকের সহ্য হয় না। যে কারণে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। জাতীয় পার্টি সবসময় জনবান্ধব দল ছিল, এখনো আছে এবং আগামীতেও থাকবে।’

 

তিনি বলেন, এরশাদ সাহেবকে যতই অপবাদ দেওয়া হোক না কেন জনগণ তার পাশে ছিল। অনেকে বলে এরশাদ সাহেবকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নামানো হয়েছে, এটা একদমই ভুল কথা। উনি জনগণের ইচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছেন। তবে একানব্বই থেকে উনার (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির ওপর নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জিএম কাদের আরও বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো সময় দলীয়করণ করেনি। জাতীয় পার্টি সবসময় বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে একটি গোষ্ঠী জাতীয় পার্টির নামে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে নানা রকমের ষড়যন্ত্র করছে।

 

তিনি বলেন, সবাই বলে আমরা নাকি আওয়ামী লীগের দোসর। কিন্তু কীভাবে দোসর হলাম। আমরা শেখ হাসিনার কোনো ধরনের জনবিরোধী কাজের সঙ্গে ছিলাম না। আমরা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের জনবিরোধী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আওয়ামী লীগের দলীয়করণের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার ছিলাম।

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে বলেন ১৫ বছর অবৈধ শাসনামল ছিল। তবে আমরা বলি সেটি ছিল ১০ বছর, ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত সরকারকে আমরা অবৈধ শাসনামল হিসেবে দেখছি। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত শাসন আমলকে অবৈধ বলা ঠিক নয়, তবে খারাপ শাসনামল বলতে পারেন।তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সব দল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তখন কি সব দল শেখ হাসিনার সরকারকে বৈধতা দেয়নি। এটা কি একা জাতীয় পার্টি দিয়েছিল।

 

জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, যখন নির্বাচনে যেতে চাই না, তখন জোর করা হয়। কিন্তু যখন যেতে চাই, তখন বাধা আসে। জাতীয় পার্টি একটি রাজনৈতিক দল, আমাদের অধিকার আছে রাজনীতি করার, যে কোনো দলের সঙ্গে আমরা যেতে পারি।

 

‘কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি এখন কেমন যেন হয়ে গেছে। আমরা মনে করেছিলাম ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এখন দেখছি দিন দিন তা বেড়েই চলছে। জনগণের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেওয়া হবে না, এটা কোন ধরনের দেশ।’জিএম কাদের বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে অনেক ভালো মন্ত্রী ছিল। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হতো। যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক ছিল। জামায়াতেরও অনেক ভালো নেতামন্ত্রী ছিল। তাদের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক ছিল।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন- জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল করিম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জিএম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদের।

সাদ্দাম হত্যা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
সাদ্দাম হত্যা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনা

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া উত্তরপাড়ায় সাদ্দাম হোসেন হত্যা মামলায় আসামি করার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য না থাকা সত্ত্বেও রাফেল নামে এক ব্যক্তিকে মামলার ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার আসামির সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আকুয়া উত্তরপাড়ায় নিজ ঘরে সাদ্দাম হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় পরে তাঁর মা আছমা খাতুন (৫৬) বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৭ অক্টোবর রুজু হয়; মামলা নম্বর ৩৬।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় সাদ্দামের সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন অন্তর নামের এক ব্যক্তি। তাদের দাবি, ঘটনার পর এলাকাবাসী অন্তরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সে সময় অন্তর একাই সাদ্দামকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

তবে হত্যা মামলায় শেষ পর্যন্ত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাফেলকে আসামি করা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি কিংবা মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে রাফেলের এমন কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের তথ্য তারা জানেন না।

মামলার এজাহারে বাদী আছমা খাতুন অভিযোগ করেন, রাফেল অপরাপর আসামিদের দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ লাগাতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের সূত্র ধরেই রাফেলকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, পূর্ববিরোধের অভিযোগ থাকলেই কি একজন ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় আসামি করা যায়? তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া অভিযোগের ধরন ও আসামির সংখ্যা একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। কখনো নয়জন, কখনো ছয়জন এবং সর্বশেষ পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তাঁরা দাবি করেন। এরপর পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার সময় ঘরে তিনজনের বেশি ব্যক্তি ছিলেন না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম ও অন্তর মাদক সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্তরের স্ত্রীর সঙ্গে সাদ্দামের আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং পরে সাদ্দামকে হত্যা করা হয়। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং মামলায় পাঁচজনকে আসামি করার ভিত্তি কী এসব বিষয় তদন্তে পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি নিয়ে নগরীতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দোষ কেউ আসামি হয়ে থাকলে তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সদর মহাফেজখানায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ; নথি তল্লাশিতে ভোগান্তি, বাড়তি টাকার বিনিময়ে সেবা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
সদর মহাফেজখানায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ; নথি তল্লাশিতে ভোগান্তি, বাড়তি টাকার বিনিময়ে সেবা!

ময়মনসিংহ সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানায় সরকারি রেকর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলের তল্লাশি সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত নকল ফি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দুই-তিন বছরের পুরোনো নথি খুঁজে পেতে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানার রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় মহাফেজখানার রেকর্ড, তল্লাশি কারক বই ও নথিপত্রের ওপর তাঁর প্রভাব তৈরি হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

নকল ফি কত, নেওয়া হচ্ছে কত?

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী নকল বা তল্লাশি সেবার জন্য ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি বা আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই অর্থ কোন সরকারি খাতে নেওয়া হচ্ছে এবং এর বিপরীতে বৈধ রসিদ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের রসিদ বই, নকল ফি আদায়ের হিসাব ও সরকারি নির্ধারিত ফি-এর তালিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

দুই বছরের নথি পেতে দুই মাস!

মহাফেজখানায় পুরোনো দলিল ও রেকর্ড তল্লাশির ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দুই-তিন বছরের পুরোনো কোনো নথির তল্লাশি চাইলে অনেক সময় দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

পর্যাপ্ত তল্লাশি কারক বই না থাকা, পুরোনো নথি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা এবং রেকর্ড খুঁজে বের করার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথভাবে ব্যবহার না করাকেই এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্ন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির তল্লাশি সেবা পেতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে কেন? এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের বণ্টন ও নথি ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অফিস সময়ের পরও অবস্থানের অভিযোগ

রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমানকে ঘিরে অফিস সময়ের পর মহাফেজখানায় অবস্থানের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কোনো কোনো দিন তিনি রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন। এ সময় বহিরাগত লোকজনের উপস্থিতি ও আড্ডা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এত দীর্ঘ সময় মহাফেজখানায় অবস্থানের প্রয়োজন কী? অফিস সময়ের পর সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলে এবং কেন কখনো কখনো গেট বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করা হয় এসব বিষয়ও প্রশাসনিকভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

জমি-জমা ও ফ্ল্যাট নিয়েও প্রশ্ন

মিজানুর রহমানের জমি-জমা, ফ্ল্যাট ও দৃশ্যমান সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, তাঁর চাকরিজীবনের বৈধ আয়, সম্পদ অর্জনের সময়কাল ও দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী, ভূমি রেকর্ড, নিবন্ধিত দলিলপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গফরগাঁওয়ের দায়িত্ব নিয়েও অভিযোগ

এর আগে গফরগাঁওয়ে দায়িত্ব পালনকালেও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, পূর্ববর্তী কর্মস্থলে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কার নথি, সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ফি আদায়ের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক রেকর্ড পর্যালোচনা করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং তল্লাশির মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে একজন কর্মচারী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকলে প্রশাসনিক নজরদারি কতটা কার্যকর এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানায় একটি প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে নির্ধারিত ফি ও বাস্তবে আদায়কৃত অর্থের হিসাব, রসিদ বই, তল্লাশি কারক বই, পুরোনো নথি ব্যবস্থাপনা, অফিস সময়ের পর অবস্থান এবং বহিরাগতদের উপস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হোক।

একই সঙ্গে মিজানুর রহমানের সম্পদ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাঁর আয়, সম্পদ বিবরণী, জমি-জমা ও ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং সম্পদ অর্জনের উৎস আইন অনুযায়ী যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড ও হিসাব পরীক্ষা করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই, সরকারি নথি ও দলিলের তল্লাশি সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে যদি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে সেই অর্থ কোন খাতে যাচ্ছে? আর গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষণ ও তল্লাশির দায়িত্বে থাকা একজন কর্মচারীকে ঘিরে যদি দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও সম্পদসংক্রান্ত প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর তার উত্তরও কি খোঁজা হবে?

অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ

সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ ফেরতের দাবি

মোঃ সাজ্জাদ মিয়া।। প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ ফেরতের দাবি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগটি করেছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামের বাসিন্দা এবং অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলে তিনি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হন। পরে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরতের আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগে পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—প্রভাষক (ইংরেজি) মো. মাহফুজুল আলম রাসেল, প্রভাষক (সমাজকল্যাণ) মো. শাহজাহান মিয়া, প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস) মো. শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক (ভূগোল) মো. মিজানুর রহমান ফকির এবং হিসাবরক্ষক মো. রুহুল আমিন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে কলেজের নিজস্ব ‘সুনির্দিষ্ট জবাবনবন্দি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন’ ঘিরে। ওই প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এরপরও ওই নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘পুনঃভর্তি ফি’ বা অবৈধ অর্থ আদায় করেছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে একই পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁরা কলেজের প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত না করে প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। আদায় করা অর্থ কলেজের অনুমোদিত হিসাব বা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রাখা হয়ে থাকলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক নীতিমালার লঙ্ঘন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের নথিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং আদায় রশিদ

নথিপত্রে দেখা যায়, অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান, কলেজ শাখার পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারী প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে নাম থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।