বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব কিবরিয়া মজুমদার বিজিবির হাতে আটক

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:৩২ এম
সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব কিবরিয়া মজুমদার বিজিবির হাতে আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদারকে আটক করেছে বিজিবি।

 

বিজিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল দুপুরে বিজিবি’র সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)’র অধীনস্থ সালদা নদী বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৫০/৮-এস-এর কাছে পুটিয়া নামক স্থান দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় বাংলাদেশি নাগরিক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদারকে আটক করেছে বিজিবি।

 

আটককৃত কিবরিয়া মজুমদার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কোমরকড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ মজুমদারের ছেলে।

 

আটককৃত কিবরিয়া বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় তিনি পালিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় আসেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পাসপোর্টবিহীন অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তাকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা থানায় সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভিসি ড. আমানুল্লাহর নির্দেশে প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে এক জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্র ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর তালিকা বিশ্লেষণে বিধিলঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

‎প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদিকা বেগম-কে কলেজের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অথচ ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারীর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের মধ্য থেকে এ নিয়োগ দেওয়ার কথা।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে ৩ জনের প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনের একদম শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে – সংশ্লিষ্ট কলেজে স্ব পদে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা গণনা করিতে হইবে।

‎কলেজ সূত্রে জানা যায়, টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় সাদিকা বেগম রয়েছেন ০৮ নম্বর অবস্থানে। তালিকায় তাঁর পূর্বে আরও বহু জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তালিকায় রয়েছে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো: কামরুজ্জামান এবং মো: আবদুল আলীম নাম।

‎স্ব পদে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সম্পূর্ণ ডিঙিয়ে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে জ্যেষ্ঠতম দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জারীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯’ আইনত মানতে বাধ্য। জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকা উপেক্ষা করে ৮ নম্বর তালিকায় থাকা শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা সরাসরি আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য ৩.৫০ সিজিপিএর মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় এ শর্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা হতে হবে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। কিন্তু নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই পৃথকভাবে ৩.৬০ সিজিপিএ বাধ্যতামূলক করায় ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, একই অনুষদের অন্য বিভাগের নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে একই অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ হলে দুই পরীক্ষার গড় সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬০ না থাকায় ওই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল কিংবা সামগ্রিক একাডেমিক অর্জন বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত কঠোর করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগে থেকেই কাউকে বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের প্রস্তাব, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চতর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক নয়। তবে সেই শর্তের পেছনে সুস্পষ্ট একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা, নীতিগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইউজিসির অভিন্ন নির্দেশনার চেয়ে বেশি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়াও স্বাভাবিক। অন্যথায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ নির্ধারণের ভিত্তি, ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগের নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিষয়ে জানতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

পরে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্বপ্না পাপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করার কারণ এবং শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নির্ধারণে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বৈষম্যের ধারণা তৈরি হলে তা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) এই ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (PSA International) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ-র প্রস্তুত থাকার কথা ব্যক্ত করেন এবং জানান যে এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’-র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (SCP)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং (Philip Ong), পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং (Wong Tze Ping), এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু (Benjamin Chue) এবং সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন (Mrithini TGGRITHARAN) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।