বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেপুটেশনেই বছরের পর বছর, বাড়ি-ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানার অভিযোগ

মো: সাজ্জাত মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
ডেপুটেশনেই বছরের পর বছর, বাড়ি-ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানার অভিযোগ

ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক শাহ মাজহারুল হক কামালকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন, মূল কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং বদলি-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায়সহ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি, দোকান, গাড়ি এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর ইনডেক্স প্লাজায় ৭সি নম্বর একটি ফ্ল্যাট, আমলাপাড়ার একটি মাদ্রাসার পাশে একটি ফ্ল্যাট এবং দুর্গাবাড়ী রোডে একটি দোকানের মালিকানার সঙ্গে শাহ কামালের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। কাঁচিঝুলিতে দুই ভাইয়ের নামে ছয়তলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মিত চারতলা একটি বাড়ি এবং নতুন বাজারের ফারহান কমপ্লেক্সে দুটি ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার কথাও অভিযোগে রয়েছে।

এ ছাড়া গফরগাঁওয়ের জামতলা মোড়ে একটি দোকান এবং ইমামবাড়ী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বাজারে একাধিক দোকান থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ময়মনসিংহের ঢাকা বাইপাস মোড়ে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে কেনা জমিতে তার তিনটি শেয়ার রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গাড়ির মালিক অন্যজন, ব্যবহার শাহ কামালের

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়িও। ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৬৪৭ নম্বরের গাড়িটি ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগের পরিবহন ঠিকাদার ও সাবেক যুবলীগ নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আজাদের নামে নিবন্ধিত হলেও শাহ কামাল এটি ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়িটি মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজার গ্যারেজে রাখা হয় বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তবে গাড়িটির প্রকৃত মালিকানা, ব্যবহার এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য, গাড়ির কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বজনদের নামে বিনিয়োগের অভিযোগ

শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালের স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ছোট ভাই শাহ ইশতিয়াক রুবেল এবং শ্যালক ফাহিমের নামে বিভিন্ন জায়গা ও ব্যবসায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের প্রকৃত উৎস এবং শাহ কামালের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এ জন্য তার আয়কর নথি, আয়-ব্যয়ের বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, কোম্পানি বা অন্যান্য বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে তদন্তের দাবিও উঠেছে।

খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে জুয়ার আসর?

অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার কাঁচাবাজারে গেন্দু মিয়ার হোটেলের পাশে ময়মনসিংহ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে শাহ কামাল ‘বিডার’ হিসেবে যুক্ত এবং ওই আসর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে জুয়ার আসর বসা, সেখানে শাহ কামালের সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক: ‘খোঁজ নেব’

অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। এগুলোর খোঁজ নেব।”

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আশরাফুল আলম বলেন, শাহ কামাল তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তার সময়ে কামালের ডেপুটেশন-সংক্রান্ত কোনো আদেশ হয়নি বলেও জানান তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার শাহ কামালের

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহ মাজহারুল হক কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

অন্যদিকে, গফরগাঁও ও ময়মনসিংহের একাধিক সংবাদকর্মীর অনুসন্ধান এবং খাদ্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য-উপাত্তে শাহ কামালের সম্পদ, কর্মস্থল ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

তবে অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, বাজারমূল্য, অর্থের উৎস এবং শাহ কামালের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড ও আর্থিক নথি যাচাই করা জরুরি।

তদন্তের দাবি

দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন, মূল কর্মস্থলে না ফেরার কারণ, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, কথিত জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায় এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সবকিছু একসঙ্গে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, শুধু অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে শাহ কামালের চাকরির পুরো কর্মকাল, ডেপুটেশন ও বদলির নথি, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দলিল, গাড়ির মালিকানা ও ব্যবহার এবং স্বজনদের নামে থাকা সম্পদের অর্থের উৎস যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

ময়মনসিংহে NID করতে এসে রোহিঙ্গা নারী ও সহযোগী আটক

মো: সাজ্জাত মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে NID করতে এসে রোহিঙ্গা নারী ও সহযোগী আটক

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তৈরির জন্য এসে এক রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর এক সহযোগী আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য গেলে পরিচয় যাচাইয়ের সময় ওই নারীর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক বলে শনাক্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ সময় ওই নারী ও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কীভাবে ওই নারী বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

‎ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
‎ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

‎ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি সুইজগেইট এলাকায় পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি পুরুষ; তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন পানিতে একটি ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়।‎

‎কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

‎ওসি বলেন, ‘হত্যার পর মরদেহ ড্রামের ভেতর ভরে ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‎পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মরদেহটি কীভাবে ড্রামের ভেতরে গেল এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, বিজ্ঞাপনী লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবিতে তাঁর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’ নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি কোচিং সেন্টারের ব্যানারে ‘সার্বিক তত্ত্বাবধানে’ ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও গফরগাঁও সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘MD Shoukat Ali’ নামের একটি আইডি থেকে ‘শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)’ ও ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’-এর বিভিন্ন ব্যাচ, হস্তলিপি প্রশিক্ষণ ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রচারণামূলক পোস্ট নিয়মিত শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতেও তাঁকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পাঠদান বা নিয়মিত কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলী।

এসব তথ্য ও ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি সেখানে কোনো নিয়মিত ক্লাস নিই না। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে কেবল পরীক্ষা বা তদারকির প্রয়োজনে উপস্থিত ছিলাম এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটিতে থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছি।’

কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের ক্লাস শিডিউল ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ওই শিক্ষককে এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। অভিযোগ ও প্রাপ্ত অডিও-ছবি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাইভেট কোচিং কিংবা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের কলেজের ক্লাস রুটিন, উপস্থিতির তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।