বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৫ এম
ময়মনসিংহে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিভাগীয় নগরীর শিকারীকান্দা ছত্রপুর এলাকায় তথ্য কমপ্লেক্সের জন্য অধিগ্রহণকৃত নিজস্ব জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভাগীয় শহরসহ ২৬টি জেলার কাজ ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি তার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। আমরা চাই গুণগত মান বজায় রেখে সঠিকভাবে কাজ শেষ হোক। আমাদের কাজে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারবে না।” তিনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন যেন প্রচার না হয় সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি বানোয়াট বা মিথ্যা খবর যেন সংবাদে রূপ না নেয়—সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৮ মাস মেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

নির্মিতব্য তথ্য কমপ্লেক্সে সিনেপ্লেক্স, ইন্টারনেট সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও ডিজিটাল ল্যাবসহ বিভিন্ন আইসিটি সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্য এটি একটি তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদান এবং তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর লক্ষ্য।

এছাড়া আইসিটি সুবিধার মাধ্যমে ফ্যাক্ট-চেকিং টুলস ব্যবহার করে গুজব ও ভুয়া খবর শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য কমপ্লেক্সটি সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রেসক্লাব, কমিউনিটি রেডিও, পর্যটন করপোরেশন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য ৩.৫০ সিজিপিএর মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় এ শর্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা হতে হবে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। কিন্তু নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই পৃথকভাবে ৩.৬০ সিজিপিএ বাধ্যতামূলক করায় ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, একই অনুষদের অন্য বিভাগের নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে একই অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ হলে দুই পরীক্ষার গড় সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬০ না থাকায় ওই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল কিংবা সামগ্রিক একাডেমিক অর্জন বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত কঠোর করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগে থেকেই কাউকে বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের প্রস্তাব, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চতর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক নয়। তবে সেই শর্তের পেছনে সুস্পষ্ট একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা, নীতিগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইউজিসির অভিন্ন নির্দেশনার চেয়ে বেশি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়াও স্বাভাবিক। অন্যথায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ নির্ধারণের ভিত্তি, ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগের নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিষয়ে জানতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

পরে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্বপ্না পাপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করার কারণ এবং শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নির্ধারণে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বৈষম্যের ধারণা তৈরি হলে তা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) এই ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (PSA International) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ-র প্রস্তুত থাকার কথা ব্যক্ত করেন এবং জানান যে এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’-র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (SCP)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং (Philip Ong), পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং (Wong Tze Ping), এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু (Benjamin Chue) এবং সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন (Mrithini TGGRITHARAN) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদনটিকে একপেশে, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঘাটের ইজারাদার। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে এবং যথাযথভাবে তথ্য যাচাই না করেই প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে।

ইজারাদারদের দাবি, প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনে ইজারা আদায়কারী, ঘাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এমনকি পারাপার হওয়া যাত্রী বা কথিত ভুক্তভোগীদের কারও বক্তব্য নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রচার করায় প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

ইজারাদাররা জানান, সরকারি নিয়ম, নির্ধারিত টোল চার্ট ও তালিকা অনুসরণ করেই তাঁরা ঘাটে টাকা আদায় করছেন। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইজারামূল্য পরিশোধ করে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা করছেন বলেও দাবি তাঁদের। তাঁদের ভাষ্য, এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রী বা সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ভিডিও প্রতিবেদন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। বাইরের একজন সাংবাদিক হাওরাঞ্চলে এসে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন। এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে এসব বিষয় অনুসরণ করা হয়নি।’

স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌকা পারাপার। এ ব্যবস্থাকে ঘিরে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা জরুরি। অন্যথায় অসম্পূর্ণ বা একপেশে তথ্য প্রচারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাটে অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই নৌকা পারাপারে টোল আদায় নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশে সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।