বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কর্মবিরতি: দুর্ভোগে সেবাগ্রহীতারা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৮ পিএম
ময়মনসিংহে নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কর্মবিরতি: দুর্ভোগে সেবাগ্রহীতারা

কর্মবিরতি থাকায় সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ চরমে। সকালে অফিসের সামনে ভিড় দেখা গেলেও অফিসের টেবিল ছিল সম্পূর্ণ অচল। কর্মকর্তারা অফিসে নেই, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন।

কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীরা জানান, ২০০৭–০৮ সালে পিইআরপি ও ফিনডিক প্রকল্পের আওতায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ গঠনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে এনআইডি সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড বিতরণসহ সব প্রযুক্তিনির্ভর কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তারা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মহি উদ্দিন বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে দক্ষতার সাথে কাজ করছি। এখন নতুন জনবল নিয়োগ দিলে পুরো ব্যবস্থাপনাই আবার নতুন করে সাজাতে হবে, যা অকার্যকর এবং সেবায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।”

২০২৪ সালে থেকে আশ্বাস দিলেও এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে—চাকরি আত্মীকরণ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তারা। তাদের দাবি—এভাবে প্রকল্প শেষ হলে বেশিরভাগ কর্মচারী চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে বেকার হয়ে যাবেন।

এদিকে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভালুকা উপজেলার ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য আসা মো. ইমন বলেন, “জরুরি কাজে এসেছি। কার্ড ঠিক না হলে চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে কিছুই করতে পারছি না।”

প্রবাস থেকে দেশে ছুটিতে আসা আবু নাঈম বলেন, “পাসপোর্ট রিনিউ করতে এনআইডি খুব জরুরি। কিন্তু শুনলাম কর্মকর্তারা কর্মবিরতিতে—আমরা বিপাকে পড়েছি।”

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান থেকে আসা মকবুল হোসেন (৮০) বলেন, আমি বয়স্ক ভাভাতার কার্ড করতে নিজের নামে সিম কিনতে যাই কিন্তু আমার ফিঙ্গার কাজ করে না, তাই ফিঙ্গার দিতে আসছি তারা আন্দোলনে থাকায় আমি ফিঙ্গার না দিয়ে চলে যাচ্ছি।

ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোত্তাসিম বলেন, কর্মকর্তা–কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকায় সাময়িকভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এটি সচিবালয়ের বিষয়।

কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, বিজ্ঞাপনী লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবিতে তাঁর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’ নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি কোচিং সেন্টারের ব্যানারে ‘সার্বিক তত্ত্বাবধানে’ ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও গফরগাঁও সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘MD Shoukat Ali’ নামের একটি আইডি থেকে ‘শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)’ ও ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’-এর বিভিন্ন ব্যাচ, হস্তলিপি প্রশিক্ষণ ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রচারণামূলক পোস্ট নিয়মিত শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতেও তাঁকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পাঠদান বা নিয়মিত কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলী।

এসব তথ্য ও ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি সেখানে কোনো নিয়মিত ক্লাস নিই না। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে কেবল পরীক্ষা বা তদারকির প্রয়োজনে উপস্থিত ছিলাম এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটিতে থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছি।’

কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের ক্লাস শিডিউল ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ওই শিক্ষককে এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। অভিযোগ ও প্রাপ্ত অডিও-ছবি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাইভেট কোচিং কিংবা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের কলেজের ক্লাস রুটিন, উপস্থিতির তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

রিফাত আহমেদ রিজভী, স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এ অসাধারণ ও সাহসী নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে নারী ফুটবলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বিশেষ শিক্ষা সামগ্রী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নেয় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দল। কে এন বি এস যুব ফুটবল একাডেমির পরিচালক সার্জন বিপ্লবের কোচিং ও নির্দেশনায় পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দেয় দলের মেয়েরা। অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে ফুলবাড়ীয়া দল পরাজিত হলেও, খেলোয়াড়দের অদম্য সাহসিকতা ও মাঠের পারফরম্যান্স জেলা জুড়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

খেলোয়াড়দের এই উদ্যম ও অদম্য সাহসিকতাকে উৎসাহিত করতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বউদ্যোগে তাঁর কার্যালয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এ সময় তিনি বিজয়ী মনোভাব নিয়ে লড়াই করা নারী ফুটবলারদের হাতে বিশেষ স্মারক উপহার হিসেবে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

শিক্ষা সামগ্রী প্রদানকালে ইউএনও তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মাঠের এই লড়াই ও সাহস আমাদের গর্বিত করেছে। একই সাথে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রতি সমানভাবে মনোযোগ প্রদান করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হাসান এবং ক্রীড়া সংস্থার সদস্য রমি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল  ‎

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। সোমবার অনুষ্ঠিত এই সভায় রেঞ্জের নিয়মিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাদের হাতে এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা। পর্যালোচনা সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা নিষ্পত্তি, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের মূল্যায়ন এবং এটি দায়িত্ব পালনে পেশাগত উৎসাহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জনের পেছনে ধোবাউড়া থানার প্রতিটি সহকর্মীর নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। তাই এই অর্জন আমি থানার সব সহকর্মীর প্রতি উৎসর্গ করছি।

‎তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি ও তাঁর পুরো টিম ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।