মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে ডিআইজির অফিসে ‘বিশৃঙ্খলা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহ পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) অফিসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন একদল শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ইস্যুতে এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ছিলেন উল্লেখ করলেও এ ঘটনার দায়ভার নেননি ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

 

গত ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে ডিআইজির অফিসে এই অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ওই সময় চেয়ারে বসে থাকা পুলিশের উপমহাপরিদর্শক আশরাফুর রহমানের সামনে হইচই করছেন বেশ কয়েকজন। কেউ তাঁকে উচ্চ স্বরে ধমকান, কেউবা অভিযোগ করেন, কেউবা প্রশ্ন করে জবাব চান। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।

 

৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও গত বুধবার নিজের ফেসবুক আইডিতে (ভেরিফায়েড নয়) শেয়ার করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাগর হত্যা মামলার আসামি তিনি।

 

ভিডিওটি আপলোড করে মোহিত উর রহমান শান্ত লেখেন, ‘আমাদের ময়মনসিংহের ডিআইজি সাহেবের সাথে মেধাবীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়’।

 

সেই ভিডিওতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আপনি (ডিআইজি) প্রতি সপ্তাহে কেন বাড়িতে যান, তারাকান্দার ওসি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহে নিহত রেদুয়ান আহমেদ সাগর হত্যা মামলার আসামিরা কেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন?’

 

এ সময় ডিআইজি আশরাফুর রহমানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদ হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে ডিআইজির কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায় ওই ভিডিওতে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এই ঘটনায় ফ্যাসিবাদী চক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।’

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাগর হত্যা মামলার আসামি মহানগর জাসদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু। ওইদিন রাতেই তাঁকে ছাড়াতে থানায় যায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ওই কাউন্সিলরকে ছাড়তে পুলিশকে চাপ দেয়।

 

কিন্তু গ্রেপ্তার কাউন্সিলর মিন্টু সাগর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁকে ছাড়তে পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ডিআইজি অফিসে গিয়ে তান্ডব সৃষ্টি করে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি সূত্রের দাবি, ডিআইজি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীরা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সাবেক শিবির নেতা মেহেদী হাসান তারেকের সহযোগী। তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের বর্তমান পদধারী ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তারা এর আগে বিআরটি অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, সদর উপজেলার অফিস কর্তার সঙ্গে বেয়াদবিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ডিআইজি অফিসের ঘটনায় ছিলেন ছাত্র সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সহযোগী সাইবে রাকাত, আল নূর আয়াশ, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কর্মী মেহেদী হাসান সিয়াম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি সাকিব হাসান রিমন, ছাত্রলীগ কর্মী রোহান, অলি উল্লাহ, হৃদয় ও ছাত্রদল কর্মী রাকিবুল ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী নিহাল।

 

এ বিষয়ে ছাত্র সমন্বয়ক ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিল, তারা সবাই আমাদের লোক। তাদের সঙ্গে একসাথে আন্দোলন করেছি, চলাফেরা উঠাবসা করি। তবে ডিআইজি অফিসে আমি যাইনি। সেখানকার ঘটনার দায়ভার আমার না, ওই ঘটনার ভালোমন্দের দায় তাদের। কাউন্সিলর মিন্টুর দুই ছেলে আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। তাই তার বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমাকে জানালে আমরা কয়েকজন থানায় গিয়েছিলাম, কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে। আমি তাকে ছাড়াতে যাইনি। তবে আমার অনুরোধ ছিল, তার সাথে যেন অন্যায় না করা হয়।’

 

ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাদী হাসান তারেক বলেন, ‘আমি এই ঘটনার কিছু জানি না। তবে ছেলেরা ডিআইজি অফিসে গিয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমি তাদের ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম।’ তবে জামায়াত ও শিবিরের একাধিক নেতা বলেন, মাহাদী হাসান তারেক আগে শিবিরের সাথী ছিল। এখন আর তাঁর সাথে শিবিরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

 

ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে ছাত্র আন্দোলনের অন‍্যতম সমন্বয়ক গোকূল সূত্রধর মানিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম‍্য নয়। এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। আমি চাই, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হোক।’

 

এই বিষয়ে ডিআইজি আশরাফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এটি আন্দোলনের চেতনাবিরোধী কাজ। মূলত আওয়ামী দোসরদের ইন্দনে একটি গ‍্যাং এর আগেও বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে। এটা কাম‍্য নয়।’

 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম জানান, ‘আমি এই জেলায় নতুন জয়েন করেছি। ডিআইজি অফিসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এদের পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এটা ঘটিয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

রিফাত আহমেদ রিজভী, স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এ অসাধারণ ও সাহসী নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে নারী ফুটবলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বিশেষ শিক্ষা সামগ্রী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নেয় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দল। কে এন বি এস যুব ফুটবল একাডেমির পরিচালক সার্জন বিপ্লবের কোচিং ও নির্দেশনায় পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দেয় দলের মেয়েরা। অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে ফুলবাড়ীয়া দল পরাজিত হলেও, খেলোয়াড়দের অদম্য সাহসিকতা ও মাঠের পারফরম্যান্স জেলা জুড়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

খেলোয়াড়দের এই উদ্যম ও অদম্য সাহসিকতাকে উৎসাহিত করতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বউদ্যোগে তাঁর কার্যালয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এ সময় তিনি বিজয়ী মনোভাব নিয়ে লড়াই করা নারী ফুটবলারদের হাতে বিশেষ স্মারক উপহার হিসেবে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

শিক্ষা সামগ্রী প্রদানকালে ইউএনও তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মাঠের এই লড়াই ও সাহস আমাদের গর্বিত করেছে। একই সাথে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রতি সমানভাবে মনোযোগ প্রদান করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হাসান এবং ক্রীড়া সংস্থার সদস্য রমি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল  ‎

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। সোমবার অনুষ্ঠিত এই সভায় রেঞ্জের নিয়মিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাদের হাতে এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা। পর্যালোচনা সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা নিষ্পত্তি, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের মূল্যায়ন এবং এটি দায়িত্ব পালনে পেশাগত উৎসাহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জনের পেছনে ধোবাউড়া থানার প্রতিটি সহকর্মীর নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। তাই এই অর্জন আমি থানার সব সহকর্মীর প্রতি উৎসর্গ করছি।

‎তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি ও তাঁর পুরো টিম ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়, অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি ট্রান্সফরমার। এতে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় আকস্মিক ঝড়টি আঘাত হানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে এলাকার বহু বসতঘরের চালা উড়ে যায়। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে সড়কটি সচল করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পর থেকেই বিদ্যুৎহীন রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলামের বসতঘর ও রান্নাঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ঘরের বিভিন্ন অংশ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে টিন ও কাঠের খুঁটি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে নতুন ভিটায় ঘর করেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমাকে সহযোগিতা করলে খুব উপকার হতো।’

গোরকপুর ও পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধবা রাহিলার বসতঘরও ঝড়ে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। অনেক কষ্টে দিন কাটে। ঝড়ে আমার ঘরটাও ভেঙে গেছে। আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।’

ঝড়ের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল। হঠাৎ ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার সময় ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রুবেলের স্ত্রী রেনুয়ারা বলেন, ‘ঝড়ের সময় ঘরের খুঁটি ভেঙে পড়ে আমার স্বামী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পশ্চিম পাবিয়াজুরীর বাসিন্দা আজি রহমানের বসতঘর ও গোয়ালঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ঘরের চারটি চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালঘরে থাকা একটি গরুর পা কেটে গেছে। এ ঘটনায় তার দুই ছেলেও আহত হয়েছেন।

গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন। একটি টিম ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপির সাবেক সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় হয়েছে। সকাল থেকেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।