বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা; গড়েছেন সম্পদের পাহাড়! 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪, ৫:৩৫ পিএম
মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা; গড়েছেন সম্পদের পাহাড়! 

ময়মনসিংহ নগরীর নিজ মহল্লায় টানা প্রায় ৯ বছর ধরে নানা দপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী। নিজ নগরীর অধিবাসী হওয়ায় ঘুষ দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতায় মানুষ অতিষ্ট হলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি কেউ। চতুর ইউসুফ আলী দুর্নীতির সাম্রাজ্য চালাতে গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের ম্যানেজ করেই তিনি এই নগরে দীর্ঘ সময় পার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

জানা গেছে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর পৈত্রিক বাড়ি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ডপা এলাকায়। তা সত্ত্বেও ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর পরবর্তীতে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (ন্যাপ) এ কর্মরত থেকে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৯ বছর যাবৎ নিজ বাড়ির সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরীর সুবাদে থেকে এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ করেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ অর্থ দিয়ে ময়মনসিংহের তৈমুর এক্সেল টাওয়ারসহ ঢাকায় করেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। স্ত্রী সন্তানদের নামেও রয়েছে একাধিক সম্পদ। এই অবৈধ সম্পদের সরকারি কোন হিসাব না থাকায় ফাঁকি দিচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউসুফ আলী ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৫ জানুয়ারি ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক অনিয়ম। বৃহত্তম এই নগরীতে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে শত শত বহুতল ভবন। নকশা বহির্ভূতভাবে একের পর এক বহু্তল ভবন তৈরি করে সৃষ্টি হচ্ছে মরণফাঁদ। যার নেপথ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী। ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন এ নিষেধ থাকলেও প্রধান নির্বাহীর উদ্যোগে বেআইনিভাবে দেয়া হয় বহুতল ভবনের নকশার অনুমোদন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন নিয়ম নীতি না মেনে নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন ইউসুফ আলী। কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই এসব অভিযোগ তাদের নিত্যদিনের ঘটনা।

 

সিটি কর্পোরেশনের ব্যয়বহুল বাজেটে নিম্ন মানের রাস্তা ঢালাই, ড্রেননির্মাণ করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।ইউসুফ আলীর নির্দেশে সিটি কর্পোরেশন থেকে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও মিশুকের লাইসেন্স নিতে ও নবায়নে চরম মুল্য পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রায় শতাধিক লোকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মাস্টার রোলে চাকরি দিয়ে দুর্নীতি করে অবৈধ টাকার মালিক হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি নানা দাপটে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং কি মেয়রের ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে ছাত্র-জনতা তাকে লাঞ্ছিত করে। ময়মনসিংহবাসীর দাবি ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষের হিসেবে তাকে চাকরিচ্যুত করা। তবে তা না করে তাকে আবারও সেই ময়মনসিংহেই বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে নিয়োগের গুঞ্জন এখন মুখে মুখে এবং টক অফ দ্যা ময়মনসিংহ।

 

নাগরিকরা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমান ও ময়মনসিংহের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার কাজী আনোয়ার হোসেনের কাছে ময়মনসিংহবাসীর দাবি এই ফ্যাসিস্ট আর ময়মনসিংহে যাতে যোগদান করতে না পারে। যোগদান করলে ময়মনসিংহের ছাত্র-জনতা ঝাড়ু মিছিল করবে বলে হুমকি দিয়েছেন।

 

অপরদিকে সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় সরকার ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।যার অধিকাংশ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

 

এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৭৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৪৫ কিলোমিটার নালা (ড্রেন) ও প্রায় ১৭ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ করার কথা। প্রকল্পের আওতায় আরও রয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল ও ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার সড়ক বিভাজক, ৩টি সেতু, ১৩টি কালভার্ট ও ৬টি পদচারী–সেতু নির্মাণের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

তবে এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে না বলে নগরবাসী মন্তব্য করেছেন।

 

এই দুর্নীতিবাজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে দুদকের আওতায় এনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উন্মোচন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাঁদের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল দুই মাসের কোনো কর্মসূচি ছিল না; এটি গত ১৬-১৭ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সারাদেশের মানুষের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, নারী এবং সরকারি কর্মচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয় এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। অস্ত্র ছাড়াই এই আন্দোলনের বিজয় মানুষের অদম্য মনোবল ও ঐক্যের অনন্য উদাহরণ।

জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, আহতদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং শহীদদের স্মরণে নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা কেবল সেই পরিবারই উপলব্ধি করতে পারে, যারা এই শোকের মধ্য দিয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান রোকন বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়; এটি দেশের আপামর মানুষের আন্দোলন। এই চেতনাকে বিভাজনের হাতিয়ার না করে ধারণ ও লালনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত না করে প্রকৃত অবদানকে যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

এ সময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমনা আল মজীদ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।