মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাদক-জুয়া-ছিনতাই দমনে সাফল্য, শ্রেষ্ঠ এসআই সাফায়েত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
মাদক-জুয়া-ছিনতাই দমনে সাফল্য, শ্রেষ্ঠ এসআই সাফায়েত হোসেন

মাদক, জুয়া, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় শ্রেষ্ঠ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নির্বাচিত হয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মো. সাফায়েত হোসেন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আসামি গ্রেপ্তার, মামলা তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বসহ সার্বিক কর্মদক্ষতা বিবেচনায় এসআই সাফায়েত হোসেনকে শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত করা হয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি মাদক, জুয়া, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন তিনি। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারেও তার সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসআই সাফায়েত হোসেনের কর্মদক্ষতা, সাহসিকতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তাকে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অপরাধ দমনে পুলিশের এমন সক্রিয় ও পেশাদার ভূমিকা ময়মনসিংহের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি শিবিরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি শিবিরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

অদ্য ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুলিশ লাইন্স, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত জেলার মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

মেধা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

তাঁর এ অর্জনে পুলিশ বিভাগের সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ সম্মাননা তাঁকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি হিসেবে ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের এ অর্জনে রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

ময়মনসিংহে পুলিশের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার একটি মামলার তদন্ত ও আদালতে দেওয়া চার্জশিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল নগরীর ভাটিকাশর মিশন স্কুলের সামনে থেকে কৃষ্টপুর রোড পর্যন্ত হকিস্টিক, লাঠি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল কিশোরের শোডাউনের অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও জনমনে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয় বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে কিশোরগ্যাং সদস্য তপু হাসানকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর-৭৪, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২৬।

মামলার এজাহারে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে মেরাজকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই শেষে মেরাজকে চার্জশিটে ৪ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

এদিকে, গত ৩ আগস্ট মেরাজকে নির্দোষ দাবি করে তার বাবা আব্দুল হাকিম ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে তিনি তার ছেলেকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে ওই অভিযোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হলে পুলিশের তদন্ত ও চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা কিংবা চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো অফিসার ইনচার্জের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনাস্থলের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

পুলিশ আরও বলছে, কারও অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে তদন্তের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ না করে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের উপাদান যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

তবে আব্দুল হাকিমের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও পুলিশের তদন্তের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দনিয়া কলেজের বিতর্কিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেপরোয়া কাণ্ড

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ এম
দনিয়া কলেজের বিতর্কিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেপরোয়া কাণ্ড

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ, সরকারি প্রজ্ঞাপন কিংবা প্রশাসনিক আদেশ, কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী দনিয়া কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সমীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নিয়মিত কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ পদে পদায়নের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোসহ নবনিযুক্ত গভর্নিং বডির সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে একক ক্ষমতার দাপট বজায় রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানু দনিয়া কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের উদ্দেশ্যে গেলে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন ও তার অনুসারী বলয় যোগদানে সরাসরি বাধার সৃষ্টি করে।

সংযুক্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (সরকারি কলেজ-২) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানুকে (পরিচিতি নং ১৫৫০১) প্রেষণে দনিয়া কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব শাহীনা পারভীন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, পদায়িত কর্মকর্তাকে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পদে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে প্রশাসনিক রীতি ভেঙে মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের পরদিনই (৫ আগস্ট) কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন। গভর্নিং বডির নবনিযুক্ত সভাপতি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন তারেককে না জানিয়ে এবং সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং কলেজের বিতর্কিত সাবেক সভাপতি ইমরান আহমেদের ভাই তানভীর আহমেদ রবিন। জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগে সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইমরান আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে ড. মোসলেহ উদ্দিন তারেককে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছিল।

কলেজের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিগত দিনে ভুয়া সনদধারী স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কলেজের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছিল, সরকারি আদেশের পরও পদ আঁকড়ে থাকার এমন আচরণে সেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পদায়িত নতুন অধ্যক্ষ যাতে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারেন, সেজন্য মব সৃষ্টির ভয় দেখিয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। দনিয়া কলেজে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।

যোগদানে বাধার বিষয়ে জানতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সমীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে পদায়িত নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানু জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে এসেছি। সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে এবং দায়িত্ব পালনে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।