সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দনিয়া কলেজের বিতর্কিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেপরোয়া কাণ্ড

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ এম
দনিয়া কলেজের বিতর্কিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেপরোয়া কাণ্ড

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ, সরকারি প্রজ্ঞাপন কিংবা প্রশাসনিক আদেশ, কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী দনিয়া কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সমীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নিয়মিত কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ পদে পদায়নের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোসহ নবনিযুক্ত গভর্নিং বডির সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে একক ক্ষমতার দাপট বজায় রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানু দনিয়া কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের উদ্দেশ্যে গেলে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন ও তার অনুসারী বলয় যোগদানে সরাসরি বাধার সৃষ্টি করে।

সংযুক্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (সরকারি কলেজ-২) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানুকে (পরিচিতি নং ১৫৫০১) প্রেষণে দনিয়া কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব শাহীনা পারভীন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, পদায়িত কর্মকর্তাকে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন পদে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে প্রশাসনিক রীতি ভেঙে মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের পরদিনই (৫ আগস্ট) কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন। গভর্নিং বডির নবনিযুক্ত সভাপতি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন তারেককে না জানিয়ে এবং সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং কলেজের বিতর্কিত সাবেক সভাপতি ইমরান আহমেদের ভাই তানভীর আহমেদ রবিন। জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের অভিযোগে সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইমরান আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে ড. মোসলেহ উদ্দিন তারেককে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছিল।

কলেজের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিগত দিনে ভুয়া সনদধারী স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কলেজের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছিল, সরকারি আদেশের পরও পদ আঁকড়ে থাকার এমন আচরণে সেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পদায়িত নতুন অধ্যক্ষ যাতে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারেন, সেজন্য মব সৃষ্টির ভয় দেখিয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। দনিয়া কলেজে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।

যোগদানে বাধার বিষয়ে জানতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সমীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে পদায়িত নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোসা: আখতারা বানু জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে এসেছি। সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে এবং দায়িত্ব পালনে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিঠামইনের ঘাগড়া ইউপি নির্বাচন: প্রচারণায় আলোচনায় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৮ এম
মিঠামইনের ঘাগড়া ইউপি নির্বাচন: প্রচারণায় আলোচনায় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ৪ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। এরই মধ্যে তরুণ সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্থানীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন মোস্তফা কামাল। তিনি ইউনিয়নের ভরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে মোস্তফা কামাল এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। গণসংযোগকালে তিনি ঘাগড়া ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

সম্ভাব্য নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কারে সহায়তা, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

স্থানীয় বাসিন্দা সিহারা গামের গোলাপ মিয়া বলেন, “মোস্তফা কামাল বিভিন্ন সামাজিক কাজে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। দক্ষিণ হাটির মসজিদের কাজেও তিনি সহযোগিতা করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলে আমরা আশা করি।”

এদিকে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোস্তফা কামালের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীসংখ্যা, দলীয় সমর্থন ও ভোটারদের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে ঘাগড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক কে এই ‘গরু আলম’?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক কে এই ‘গরু আলম’?

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আলম মিয়া ওরফে ‘গরু আলম’ নামের এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী, ঝলঝলিয়া, গাবড়াখালী, কড়ইতলী, আয়নাতলীসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য দেশে আনা হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে ভারতীয় গরু, জিরা, কম্বল, কসমেটিকস, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যও সীমান্তপথে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালানের পাশাপাশি ‘হুন্ডি’ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে ওই সিন্ডিকেট। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন আলম মিয়া। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কতিপয় সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করে চোরাচালানের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের কাছে আলম মিয়া নামের চেয়ে ‘গরু আলম’ নামেই বেশি পরিচিত বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় তাঁর প্রভাব ধরে রেখেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনার মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০ মিনিট পর কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে নগর পরিচালনায় রোকনুজ্জামান রোকন

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৮ পিএম
রাজপথের সংগ্রাম থেকে নগর পরিচালনায় রোকনুজ্জামান রোকন

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে।

রাজনীতির রাজপথে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার নগর পরিচালনার দায়িত্বে রোকনুজ্জামান রোকন। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে নগরবাসীর মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোকনুজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।

তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, রোকনুজ্জামান সরকার রোকনের নেতৃত্ব একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর সহকর্মীরা।

ছাত্রদলের কর্মী থেকে নেতৃত্বে আসা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন, পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন—প্রতিটি পর্যায়েই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল আলোচনায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব তাঁর জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তিনি।

নগরবাসীর অনেকের মতে, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে রোকনুজ্জামান রোকনকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও নগর পরিচালনায় ভূমিকা রাখছে।

তবে নগরবাসীর প্রত্যাশাও বড়। ময়মনসিংহকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান বাড়ানো, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে তাঁদের।

রাজনৈতিক সহকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এখন নগর উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রোকন। আর নগরবাসীর প্রত্যাশা—রাজপথে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার নগর উন্নয়নেও তেমনি দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।

নেতৃত্ব যে শুধু পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কাজের মাধ্যমেই তার মূল্যায়ন হয়—রোকনুজ্জামান রোকনের বর্তমান দায়িত্ব পালনের দিকে তাকিয়ে এখন সেই পরীক্ষার সময়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড আগামী দিনে নগরবাসীর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।