পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ‘অনগ্রসর’ পরিচয় মুছে দিতে কাজ করছে সরকার: ডেপুটি স্পিকার
পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষের নামের আগে ব্যবহৃত ‘অনগ্রসর’ শব্দটি দূর করে তাদের সমতলের মানুষের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান এবং মানবিক সহায়তা তহবিল থেকে রোগীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সেখানে গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান কোনো পরিচয় বিবেচ্য ছিল না; সবাই ছিলেন বাংলাদেশি। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে পাহাড় ও সমতলের সব জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু উপবৃত্তি বা বাইসাইকেল প্রদান নয়, নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে প্রায় ৫০০ ফুট গভীর ২৫টি নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে নলকূপ স্থাপন সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প উপায়ে নিরাপদ পানি সরবরাহের বিষয়েও কাজ চলছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন নিরাপদ পানি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলমাকান্দায় প্রায় ৪২টি সাবমার্সিবল টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোথায় এসব টিউবওয়েলের প্রয়োজন বেশি, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা, বিদ্যালয়সহ জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী স্থানে এসব টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে।
ফ্ল্যাশ ফ্লাড প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে বন্যার কারণে যাতে জনবসতিতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সে জন্য সরকার প্রতিরোধমূলক ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হতে পারে। তবে এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, রোগীদের যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কোনো দয়া নয়; একজন নাগরিক হিসেবে এটি তাদের অধিকার। সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুজ্জামান আসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।








