সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘুষ ছাড়া কাজ ক‌রেন না ময়মনসিংহ সদর সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
ঘুষ ছাড়া কাজ ক‌রেন না ময়মনসিংহ সদর সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান

ময়মনসিংহ সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ুন কবির খান ঘুষ ছাড়া কোনও কাজ ক‌রেন না। এমনকি মোটা অঙ্কের ‍ঘুষ নিয়ে একজনের জমির দাগ, পরিমাণ ও মৌজা নম্বর পরিবর্তন করে আরেকজনের নামে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন জমির মালিকরা। কেউ কেউ জমিও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে এক মৌজার জমি অন্য মৌজায় দিয়ে নতুন দাগ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তবে চাহিদামতো ঘুষ পেলে সঠিক মৌজার জমির ওপর প্রতিবেদন দিচ্ছেন সার্ভেয়ার।

ভোগান্তির শিকার কয়েকজন জমির মালিক জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ সদর বিভাগীয় জেলার প্রধান নগরী হওয়ায় এ নগরীতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের চাহিদা রয়েছে। আর জমি কেনাবেচার আগে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজার বিষয়ে সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হয়। ওই প্রতিবেদন না থাকলে জমি কেনাবেচা করা যায় না। এ অবস্থায় জমির মালিকরা ওই প্রতিবেদনের জন্য সদর উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সে এলে আগেই মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান। এই ঘুষের ব্যবসা চালানোর জন্য তার রয়েছে বিশাল দালাল বাহিনী। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস প্রতিবেদনের জন্য তাদের ঘোরানো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ঝামেলাযুক্ত জমিগুলোর ক্ষেত্রে একজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ওই জমি আরেকজনের উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিক জমিটি হারাচ্ছেন।

খোঁজ নি‌য়ে জানা‌ গে‌ছে, ময়মনসিংহ সদরে আসার আগে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ছিলেন হুমায়ুন কবির খান। সেখানে তার ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সেবা গ্রহীতারা। সদর ভূমি অফিসে যোগদান করেও অল্পদিনে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে আসা জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। ঘুষ ছাড়া ভূমির কোনও কাগজপত্র দিচ্ছেন না। এমনকি খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। আবার যার কাছ থে‌কে বে‌শি টাকা পা‌চ্ছেন, তার পক্ষে জমির প্রতিবেদন দিচ্ছেন। ঘুষ না পেলে ঘটে বিপত্তি। অনুসন্ধান করে এমন অসংখ্য অভিযোগ জানা গেছে তার বিরুদ্ধে।

মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে প্রতিবেদন নিয়েছেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ারের সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখানের কোনও জমি বেচাকেনা করা যায় না। এই সুযোগ নিচ্ছেন সার্ভেয়ার। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও জমির পরিমাণ বুঝে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চান। টাকা না দিলে বছরেও প্রতিবেদন দেন না সার্ভেয়ার। শেষমেশ বাধ্য হয়ে সবাই ঘুষ দিচ্ছেন। আবার কেউ এসব নিয়ে কথা বললে কিংবা প্রতিবাদ জানালে তাকে হয়রা‌নির শিকার হতে হয়। জমিও হারাতে হয়। এসব নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান ।

নিজের জমি বিক্রি করার জন্য সার্ভেয়ারের কাছে সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় জমি হারিয়ে একাধিক জমি মালিক বলেন, তাদের খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজায় কোনও ভুল ছিল না। কেনা জমিটির সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও আরেকজন‌কে জায়গার প্রতিবেদন দিয়ে দখল দিয়েছেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান।

একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন জেলা সদরের একাধিক বাসিন্দা । তারা বলেন, ‘তাদের জায়গার শুনা‌নিতে তাদেরকে ছাড়াই ক্রেতা‌কে প্রতিবেদন দেওয়ায় জ‌মিটি হারাতে হ‌য়ে‌ছে। এমন দুর্নীতিবাজ সা‌র্ভেয়ার জীবনেও দেখিনি বলেও অনেকে মন্তব্য করেন ।

চুরখাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর চাহিদামতো ঘুষ না দিলে বলা হয়, জমির কাগজপ‌ত্রে নানা সমস্যা। এসব ঠিক করতে টাকা লাগবে। টাকা দিলে সব ঠিক। না হয় মাসের পর মাস হয়রা‌নি ক‌রেন। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলার সব গ্রাহককে হয়রানি করে ঘুষ নিচ্ছেন হুমায়ুন কবির খান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান-আমার একটা জমির ফাইল প্রায় ৮ মাস ধ‌রে সার্ভেয়ার হুমায়ুনের কা‌ছে প‌ড়ে আছে । তিনি বলেন, ‘এখনও রিপোর্ট দেয় নাই। এর আগের এসিল্যান্ড বলার পরও নানা কথা বলে ঘুরাচ্ছেন সার্ভেয়ার। শেষে আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছেন। দি‌তে পা‌রি‌ নাই। তাই আজও রিপোর্ট দেয়নি। জমির কাগজপত্র সব ঠিক থাকার পরও রি‌পোর্ট দেয় না। টাকা ছাড়া দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এত টাকা পাবো কোথায়? এত টাকা আমার কাছে থাকলে কী আর জমি বিক্রি করতে চাইতাম।’

অবশ্য সাধারণ মানুষের এসব ভোগান্তিকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবির খান ।

জমির প্রতিবেদন নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান মুঠোফোনে বলেন তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের অস্বীকার করেন, সত্য নয় বলে জানান।

সুত্র জানা যায় সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর আগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা ভূমি অফিসে পরে সেখান থেকে ফুলবাড়িয়ায় বদলী হন। দায়িত্ব প্রাপ্ত এই দুই উপজেলায় তার দায়িত্ব পালনে অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা থাকায় বেশীদিন টিকে থাকতে পারেননি। সর্বশেষ তিনি ফুলবাড়িয়ায় অনিয়ম দুর্নীতি করে সমালোচিত হয়ে সেখানকার সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের তুপে পড়ে সদর উপজেলায় যোগদান করেন। তার দেশের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়।

পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেল বাবা-মা ও সন্তানের প্রাণ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেল বাবা-মা ও সন্তানের প্রাণ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু এলাকায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন: মিঠামইন উপজেলা সদরের মহিষারকান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৭), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাদের ছেলে মুহাম্মদ আয়ান (১০)।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির হোসেন তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইনের দিকে ফিরছিলেন। পথে ভাতশালা সেতু এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পিকআপ চালককে আটক করেন এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১২:২০ এম
কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর জীবনবোধ ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব।’

শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’

তিনি বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকার মিরপুরের আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ। এ ধরনের শিশু বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। শিশুটির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের জাতীয় জীবনে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘নজরুল স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কবি নজরুল বিষয়ে গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজনকে ‘নজরুল পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী এবং ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং নজরুল মেলা পরিদর্শন করেন।

এর আগে দুপুরে ত্রিশাল উপজেলায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে খালটি খনন করেছিলেন। প্রায় ৪৭ বছর পর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অন্যায়কারীর বিচার করতে হলে সরকারকে নিয়ম ও আইন মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধ, যান চলাচলে বাধা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আইনের শাসন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেশে কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু যারা আজ উচ্চকণ্ঠ, তাদের অনেককেই তখন মাঠে দেখা যায়নি।’

অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে খেটে খাওয়া মানুষ।’

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম ও স্কুলব্যাগ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক ও ব্যাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজ চলছে। ইনশা আল্লাহ, জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কাছে নতুন পোশাক ও স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ধরার খাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কৃষক এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজন রয়েছে।’

পরে বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বাস্তবায়নে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৫ টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট নতুন শ্রেণিকক্ষ ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রকৌশলী রাকিব উল হাফিজ এবং চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি এবং এর ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। তাই বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে এ এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান আগের চেয়ে আরও উন্নত হবে।

শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “এই স্কুলগুলো আপনাদের কমিউনিটির সম্পদ। তাই এগুলো দেখভাল করে রাখার দায়িত্বও আপনাদের। স্কুলের পরিবেশ যেন ভালো থাকে এবং বিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সময় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।