শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ ১৪৩২
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ ১৪৩২

নিয়ম ভেঙে রহস্যজনকভাবে রাতভর খোলা ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রী অফিস

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩ এম
নিয়ম ভেঙে রহস্যজনকভাবে রাতভর খোলা ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রী অফিস

ময়মনসিংহের ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রহস্যজনকভাবে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে দাপ্তরিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহকারী চন্দনা পন্ডিত ও মোহরার নাজমা আক্তারের অনুপস্থিতিতে সকল কক্ষের তালা খুলে স্পর্শকাতর নথিপত্র নাড়াচাড়া ও কাজ করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, রাতে ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত কক্ষে আলো জ্বলতে দেখা যায়। অথচ ওই সময় সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা কর্মচারী অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযোগ উঠেছে, তার অনুপস্থিতিতে এই অফিসের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর অফিস খোলা রাখার বিধান না থাকলেও, এখানে প্রায়ই রাতে পর্দার আড়ালে কার্যক্রম চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সহকারী ও মোহরারের অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো অস্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তরা কক্ষ ব্যবহার এবং নথিপত্র দেখা আইনত দণ্ডনীয়। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য হাসিল বা নির্দিষ্ট কোনো দলিলের কাজ সম্পন্ন করতেই রাতের এই গোপনীয়তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি একটি স্পর্শকাতর দপ্তরে রাতের আঁধারে এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ দলিল গ্রহীতা ও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, এর পেছনে কোনো বড় ধরণের জালিয়াতি বা অবৈধ লেনদেনের যোগসূত্র থাকতে পারে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মোহরার নাজমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কক্ষ খোলার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে সহকারী চন্দনা পন্ডিত রাতে অফিস খোলা রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, কাজের চাপ বেশি থাকায় তিনি কাজ করছিলেন। তবে মোহরারের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতি বা যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।

ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রার ওমর ফারুক জানান, “অফিস সময়ের বাইরে বা রাতে কাজ করার কোনো নিয়ম নেই। অফিস কক্ষে অন্য কারো প্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।

ময়মনসিংহের রমেশসেন রোডের পতিতা পল্লীতে পুলিশের অভিযান, মদসহ গ্রেফতার ৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ময়মনসিংহের রমেশসেন রোডের পতিতা পল্লীতে পুলিশের অভিযান, মদসহ গ্রেফতার ৪৬

ময়মনসিংহ নগরীর রমেশসেন রোড এলাকার পতিতা পল্লীতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় বিপুল পরিমাণ মদও উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল হাসানের নির্দেশে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পতিতা পল্লীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মদসহ ৪৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার দেখানো হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ শিবিরুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। থানাধীন এলাকায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ঈদযাত্রায় চলন্ত ট্রেনে সন্তান প্রসব, মা-শিশুকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন ছাত্রনেতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৫ এম
ঈদযাত্রায় চলন্ত ট্রেনে সন্তান প্রসব, মা-শিশুকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন ছাত্রনেতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস

ঈদযাত্রার ভিড়ের মধ্যেই ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনে এক প্রসূতি সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। পরে ছাত্রদল নেতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মা ও নবজাতককে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। প্রসূতি শারমীন আক্তার (২৪) ট্রেনেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা National Emergency Service 999-এ ফোন আসে যে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুতি নেয়।

তিনি বলেন, ট্রেনটি ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে শারমীন আক্তার ট্রেনেই সন্তান প্রসব করেন। পরে ট্রেনে থাকা দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় তাকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।

রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, শারমীন আক্তার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। সঙ্গে ছিল তার চার বছর বয়সী মেয়ে। গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়ার পর তার তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয়।

এ সময় ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিজয় একাত্তর হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান হোসাইন রবি তাকে সহায়তা করেন এবং দ্রুত স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

ছাত্রনেতা সোলায়মান হোসাইন রবি বলেন, ট্রেনে একজন নারী তীব্র প্রসব বেদনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। পাশে কেউ না থাকায় দুই নারী যাত্রীকে ডেকে এনে তাকে সহায়তা করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যথার পর ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতেই ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এ সময় পুরো স্টেশন আবেগঘন পরিবেশে ভরে ওঠে।

তিনি আরও জানান, পরে ঘটনাক্রমে ওই নারীর স্বামী সাগর সেখানে উপস্থিত হন। তারা জানান, তাদের বাড়ি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে এবং নারীটির বাবার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

এদিকে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পরই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্টেশনে পৌঁছানো হয়। ট্রেনেই শিশুর জন্ম হলেও দ্রুত মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুজনেই ভালো আছেন।