রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহে জমিজমা নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: ডিবি পুলিশের অভিযানে মূল আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০১ পিএম
ময়মনসিংহে জমিজমা নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: ডিবি পুলিশের অভিযানে মূল আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের ঘাগড়া ইউনিয়নে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত মারা যান ওই যুবক। ঘটনার পর পলাতক থাকা মূল আসামি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে ঘাগড়া এলাকার নিজ বাড়ির উঠানে জমিজমা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম সুমন (৩৮) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার জলি (৩২) ছোট ভাই আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)-এর ওপর হামলা চালান। লোহার রড ও লাঠির আঘাতে চুন্নু গুরুতর আহত হন। এ সময় তাদের আরেক ভাই রনি-ও আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজধানী ক্লিনিকে, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর সকালে চুন্নু মারা যান। এরপর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন ও তার স্ত্রী পলাতক ছিলেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “ঘাগড়া এলাকায় একের পর এক অপরাধ হলেও পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় মানুষ আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ ছিল না।”

এই প্রেক্ষাপটে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তৎপরতা শুরু করে। কিশোরগঞ্জ জেলা ডিবি উত্তর ইউনিটের ওসি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই জাহাঙ্গীর আলমের টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি অভিযুক্ত সুমন ও জান্নাত আক্তার জলিকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত চুন্নুর স্ত্রী বলেন, “এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, দিনের আলোয় পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি পাব না।”

এদিকে আসামি গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, “যে-ই অপরাধী হোক, আইনের আওতায় আসতেই হবে। ডিবি সেটাই প্রমাণ করেছে।”

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিকলীতে বীর বিক্রম মতিউর রহমানের নামে সড়ক ও চত্বরের নামকরণের সিদ্ধান্ত

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
নিকলীতে বীর বিক্রম মতিউর রহমানের নামে সড়ক ও চত্বরের নামকরণের সিদ্ধান্ত

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিকলীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মতিউর রহমান বীর বিক্রমের নামে একটি সড়ক ও একটি চত্বরের নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা পরিষদ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিকলী নতুন বাজার থেকে কুর্শা বাজার পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করা হবে ‘মতিউর রহমান বীর বিক্রম সড়ক’। অন্যদিকে শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ের নাম হবে ‘মতিউর রহমান বীর বিক্রম চত্বর’।

জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুর্শিদ আলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়। গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। ওই পত্রে প্রস্তাবিত সড়ক ও চত্বরের নামকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বীর বিক্রমের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই নামকরণ।

‎ময়মনসিংহে আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহীনের মটর ঘর থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার! নেপথ্যে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
‎ময়মনসিংহে আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহীনের মটর ঘর থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার! নেপথ্যে কারা?

ময়মনসিংহ সদরের ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নে রাজগঞ্জ বাজার (সাহেব কাচারি) এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের মালিকানাধীন একটি মটর ঘর থেকে বিভিন্ন প্রকারের চোরাই মালামাল উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

‎এ ঘটনায় (৬ নভেম্বর) সত্যের সন্ধান লোক সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক গোলাম রব্বানী (বাউল রব্বানী) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মটর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।

‎ভুক্তভোগী বাউল শিল্পী গোলাম রব্বানী বলেন, আমি “সত্যের সন্ধান লোক সাংস্কৃতিক একাডেমি”র পরিচালক। আমার সারাজীবনে তিলে তিলে গড়া সকল বাদ্যযন্ত্র চুরি হয়েছে। একটা যন্ত্র রাঘবপুর বড়বাড়ির মৃত শামসুল হকের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের মালিকানাধীন মটর ঘর থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করেছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমান চুরির সাথে জড়িত রয়েছে। আমার বিশ্বাস চুরি হওয়া মালামালগুলো পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।

‎স্থানীয়রা জানান,  চলতি বছরেই এ এলাকায় অন্তত কোটি টাকার মালামাল চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোর সনাক্ত না হওয়ায় একাধিক ভুক্তভোগী অজ্ঞাত নামে থানায় অভিযোগ করেছে, যা পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। সম্প্রতি চোর চক্র সনাক্ত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎এদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলা জোরপূর্বক প্রত্যাহারে বাধ্য করতে চাঁদা দাবী, হত্যার হুমকি ও ‘মব’ সৃষ্টি, এক একর জমিতে মাছ চাষ ও নার্সারির কর্যক্রম বন্ধ রেখে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি সাধনে জাতীয় দৈনিক নতুন সময় পত্রিকার ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অদৃশ্য কারনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি পুলিশ।

‎জানা যায়, আওয়ামী সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের নামে কোতোয়ালী মডেল থানায় সাংবাদিক নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক নির্যাতন, চুরি, ছিনতাইসহ ভয়ংকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

‎এ ঘটনার ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু মালামাল স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে বলে অবগত হয়েছি। ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম
মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাইদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করা, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে স্ট্যাম্পে আপস-মীমাংসার চুক্তিনামা সম্পাদিত হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৯) মিঠামইন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একই বাবার সন্তান মাওলানা আহসান হাবিব (৫৭), তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৫২) এবং ছেলে মুজাহিদ মিয়াকে (২২) বিবাদী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসের সুযোগে তাঁর মালিকানাধীন বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বিবাদীরা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘরে থাকা কাঠের বক্স, চৌকি, ফ্যান, সিমেন্টের পিলারসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি অঙ্গীকারনামায় আপস-মীমাংসার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথম পক্ষ হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে মাওলানা আহসান হাবিব ও মাহবুব আলমের নাম রয়েছে। দলিল অনুযায়ী, বাড়িসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই লাখ টাকা লেনদেন এবং ৩৯৫ নম্বর দাগ থেকে তিন শতাংশ জমি দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর দ্বিতীয় পক্ষের আর কোনো দাবি-দাওয়া থাকবে না বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে।

শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে চুক্তির শর্ত কার্যকর হচ্ছে না। বরং বিবাদীরা তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই মাহবুব আলম ও আহসান হাবিব ওয়ারিশি সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাহবুব আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এবং মাওলানা আহসান হাবিব তুমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দলিলপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।