শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য সামনে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সার্জেন্ট অব পুলিশ হিসেবে বর্তমানে কর্মরত সরদার মুহিব-এর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা ও পেশাগত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা।

‎জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অধীনে রাজধানীর টিটিপাড়া মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো দ-১১-১১৬০ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গতিরোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলার পর বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। অটোরিকশাটির দুই পাশে সরদার পরিবহন নামের ব্যানার ছিল।

‎কাগজপত্র চাওয়ামাত্রই চালক খোকন দাবি করেন, এই গাড়ির প্রকৃত মালিক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট সরদার মুহিব এবং সমস্ত মূল কাগজপত্র তাঁর কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব এর আগে ঢাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০/২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামান। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে সিএনজি ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

‎পরিবহন খাত ও অটোমোবাইল বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে একটি নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত আনুমানিক মূল ইঞ্জিন ও বডি তৈরির খরচ সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে রাজধানীতে নতুন নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বন্ধ থাকায় রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ একটি বাণিজ্যিক সিএনজি অটোরিকশার বাজার দর বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই হিসাবে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের নিয়ন্ত্রণে থাকা আনুমানিক ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আনুমানিক বহরের বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকার ওপরে, যা একজন সরকারি চাকুরিজীবীর বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী এবং বিশেষ করে শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া স্পষ্টত বেআইনি।১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো মুনাফাভিত্তিক পেশায় যুক্ত হতে পারেন না। সার্জেন্ট অব পুলিশ পদে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) তে কর্মরত থেকে পরিহন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই যখন বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক বা মালিক হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন সড়কের শৃঙ্খলা বিধান ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

‎পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করা কেবল বেআইনিই নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের অসদাচরণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভাবমর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিধিমালা অনুসরণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

‎ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিকানার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অমান্য করে কীভাবে তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ এম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা  জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মিঠামইন বাজার থেকে এ গণমিছিল শুরু হবে।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে প্রচারিত পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে শহীদ এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দলের নেতা ও অহংকার উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কর্মসূচিতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে মিঠামইন বাজারে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলটির নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতেই শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দীন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় এ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা চাই, আমাদের নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার হোক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। শনিবারের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলান ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন ও উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। এ সময় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক কারবারিরা অধিক মুনাফার লোভে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবনের শেষ বয়সে এসে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঘুষ দাবির নাটক সাজিয়ে তুলকালাম, সরকারি কাজে বাধা ও মিথ্যা অপপ্রচার

‎গাজীপুরে অপহরণের আসামী ছাড়াতে না পেরে পুলিশের ওপর যুবদল নেতার চোখরাঙানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ এম
‎গাজীপুরে অপহরণের আসামী ছাড়াতে না পেরে পুলিশের ওপর যুবদল নেতার চোখরাঙানি!

১৬ বছরের নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা এবং এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চরম ক্ষোভ ঝেড়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা। আসামীকে ছাড়াতে জোর তদবির ও মামলা নিতে নিষেধ করলেও কথা না শোনায় কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির পাল্টা অভিযোগ ও থানার সামনে হট্টগোল সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং অপহরণ মামলার আসামির পক্ষে যুবদল নেতার এমন প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে পুরো গাজীপুরজুড়ে চরম আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার গোবিন্দবাড়ী এলাকার ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস কর্মীর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে ভবানীপুর বটতলা এলাকার একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। চলতি বছরের গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে বাসা থেকে বের হলে স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ আলিফ (১৮) নামের এক তরুণ ২ ও ৩ নং আসামির সহায়তায় নাবালিকাকে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা গত ২০ অক্টোবর কাশিমপুর থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাশিমপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি আলিফকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলা রুজু ও আসামী গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে মাঠে নামেন কাশিমপুর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোবিন্দবাড়ী এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ (৩৫)। ঘটনার পর থেকেই হারুন অর রশিদ আসামী আলিফকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসআই উজ্জ্বলের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করেন এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে মামলাটি নথিভুক্ত (এফআইআর) না করা হয়, সে জন্য জোর সুপারিশ ও নির্দেশ প্রদান করেন। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং ভুক্তভোগী মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই উজ্জ্বল কোনো অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আসামীকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন।

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের অন্যায্য দাবি ও ক্ষমতার দাপট বজায় রাখতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যুবদল নেতা হারুন। কাশিমপুর থানার সামনে প্রকাশ্যে এসআই উজ্জ্বলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হন তিনি। হারুন অর রশিদ প্রকাশ্যে এসআই উজ্জ্বলের আইনি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, পুলিশ নাকি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে, জোরপূর্বক জিডিতে স্বাক্ষর নিয়েছে এবং বাদীর সম্মতি ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করেছে।

‎তবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মামলা থেকে আসামীকে রক্ষা করতে এবং পুলিশকে সামাজিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ঘুষের নাটক সাজানো হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো গুরুতর মামলায় আসামিপক্ষকে রক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা, আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা স্পষ্টত দণ্ডনীয় অপরাধ।

‎স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার হন, তবে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সচেতন সমাজ অবিলম্বে আইনি কাজে বাধার সৃষ্টিকারী যুবদল নেতা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

‎এসংক্রান্তে খোদ মামলার বাদী (অপহৃত কিশোরীর মা) বলেন, আমার নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ায় আমি নিজে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এসআই উজ্জ্বলকে আমি কোন প্রকার টাকা-পয়সা দিইনি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করেছেন। বাদীর এই সরাসরি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যুবদল নেতা নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসামী রক্ষা করতেই কাল্পনিক গল্পের অবতারণা করেছিলেন।

‎এবিষয়ে জানতে যুবদল নেতা হারুনুর অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রকাশ্যে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডার বিষয়টির কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। উপরন্তু, ঘুষ দাবির স্বপক্ষে কোনো অডিও-ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন বা কোনো ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

‎ঘুষ দাবি এবং অন্যায় চাপের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এসআই উজ্জ্বল জানান, অপহৃত নাবালিকা উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। আসামি পক্ষ নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির আশ্রয় নিয়ে পুলিশের ওপর অসৎ উদ্দেশ্যে মনগড়া অভিযোগ তুলছে। বাদীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।