বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মহিলাদল নেত্রী শিরিনা ও তার সহযোগী ঝরনা হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৩১ এম
ময়মনসিংহে মহিলাদল নেত্রী শিরিনা ও তার সহযোগী ঝরনা হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেফতার 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলাদলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা আক্তার ও তার সহযোগী ঝরনাকে হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরীর আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল (মিন্টু) কলেজ এলাকা থেকে দুপুরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ত্রিশালের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শামীমকে হানিট্র্যাপের অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। যার নং-৮২ তাং ২৯/২৬।

উল্লিখিত মামলায় এর আগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও অভিযোগের মূল পরিকল্পনাকারী শিরিনা আক্তার পলাতক ছিল। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাফায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে (৭ জুলাই) শিরিনাসহ ২জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর ত্রিশালের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীদের ব্যবহার করে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত। তাদের অভিযোগ, শিরিনা আক্তার ওই চক্রের মুলহোতা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগে ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অন্তরকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল শিরিনা চক্র।

আরো জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের সামাল মেম্বারের ছেলে শামীম বলেন, শিরিনা ও ঝরনা আমাকে ধর্ষণের মতো স্পর্শ কাতর মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় বলে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

ত্রিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তিতে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুনে বিব্রত হয়েছিলেন ত্রিশালবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ত্রিশাল বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ত্রিশালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দল বদ্ধপরিকর। যদি কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বাঘমারা একটি বাসায় হানিট্র্যাপের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় হানিট্র্যাপ মামলার এজাহার নামীয় আসামী শিরিনাসহ দুইজনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ নগরী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলায় তিনজনসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরো জানান, এই হানিট্র্যাপ চক্রটি বিশাল বড়। এর সাথে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। এদেরকে ওয়াইট কালার অপরাধী বলা যায় কারণ দেখতে সবাই ভদ্রবেশী কিন্তু তাদের কৃতকর্ম ব্ল্যাক কালার।

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

ময়মনসিংহ নগরীতে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার ভেতরে রয়েছে। এরপরই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করে দেখা গেছে, ১৮ তলা এলিট টাওয়ারের নির্মাণকাজ রেলওয়ের জমির মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ভবনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

ভিসি ড. আমানুল্লাহর নির্দেশে প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে এক জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্র ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর তালিকা বিশ্লেষণে বিধিলঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

‎প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদিকা বেগম-কে কলেজের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অথচ ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারীর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের মধ্য থেকে এ নিয়োগ দেওয়ার কথা।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে ৩ জনের প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনের একদম শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে – সংশ্লিষ্ট কলেজে স্ব পদে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা গণনা করিতে হইবে।

‎কলেজ সূত্রে জানা যায়, টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় সাদিকা বেগম রয়েছেন ০৮ নম্বর অবস্থানে। তালিকায় তাঁর পূর্বে আরও বহু জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তালিকায় রয়েছে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো: কামরুজ্জামান এবং মো: আবদুল আলীম নাম।

‎স্ব পদে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সম্পূর্ণ ডিঙিয়ে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে জ্যেষ্ঠতম দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জারীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯’ আইনত মানতে বাধ্য। জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকা উপেক্ষা করে ৮ নম্বর তালিকায় থাকা শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা সরাসরি আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।