প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:০৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মুখে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, হুমকিতে ফসলি জমি-সড়ক ও সেতু

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।।

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীতীরবর্তী ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শত শত একর ফসলি জমি, গুরুত্বপূর্ণ কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত একটি সেতু ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদীভাঙনের কবল থেকে জনবসতি, কৃষিজমি, সড়ক ও সেতু রক্ষার দাবিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

আবেদনের অনুলিপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, র‌্যাব-১৪-এর অধিনায়ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পাগলা থানার ওসি, টাংগাব ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে যেকোনো সময় বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

শুধু বসতভিটাই নয়, নদীর তীরবর্তী শত শত একর ফসলি জমিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষিজমি নদীতে বিলীন হলে স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষা কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাছাকাছি থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অংশবিশেষ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত সেতুটিও ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে নদীর গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে সেতুটির ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবেদনকারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্র-কালিবানার মোহনার সেতুটি রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন