প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ । ১:৪০ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধে ছোট ভাইকে অপহরণের অভিযোগ, দুই দিন পর উদ্ধার

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের জেরে নজরুল হক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, দুই দিন ধরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার পর তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল হক অভিযোগ করেন, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কান্দিপাড়া বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। খোকন শিংয়ের বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর চোখে কাপড় বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দুই দিন আটকে রাখা হয়।

নজরুলের ভাষ্য, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাগামাড়া পানির পাম্পের পেছনে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

নজরুল হকের অভিযোগ, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির সাড়ে ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই নূরুল হকের সঙ্গে বিরোধ চলছে। নামজারি করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ২৩ শতাংশ জমি নামজারি হয়েছে। বাকি সাড়ে ১৭ শতাংশ জমি তাঁর বড় ভাই গোপনে নিজের নামে নামজারি করিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল।

তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ভাতিজা স্বপন, তোফাজ্জল, সবুজ মিয়া, ভাতিজার স্ত্রী আশরাফুন নাহারসহ আরও ১০-১২ জন এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

নজরুলের মেয়ে রিমি বলেন, তাঁর বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই ফোনে জিডি না করার জন্য হুমকি ও প্রলোভন দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।

রিমির ভাষ্য, একদিন অপেক্ষা করার পর ২৭ আগস্ট সকালে তাঁর মা আনোয়ারা খাতুন পাগলা থানায় জিডি করেন। ওই রাতেই তাঁর বাবাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পাগলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফসার আলী বলেন, জিডি হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

অপহরণের অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি এসব এখন তদন্তের বিষয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন