ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার একটি মামলার তদন্ত ও আদালতে দেওয়া চার্জশিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল নগরীর ভাটিকাশর মিশন স্কুলের সামনে থেকে কৃষ্টপুর রোড পর্যন্ত হকিস্টিক, লাঠি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল কিশোরের শোডাউনের অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও জনমনে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয় বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে কিশোরগ্যাং সদস্য তপু হাসানকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর-৭৪, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২৬।
মামলার এজাহারে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে মেরাজকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই শেষে মেরাজকে চার্জশিটে ৪ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
এদিকে, গত ৩ আগস্ট মেরাজকে নির্দোষ দাবি করে তার বাবা আব্দুল হাকিম ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে তিনি তার ছেলেকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে ওই অভিযোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হলে পুলিশের তদন্ত ও চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা কিংবা চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো অফিসার ইনচার্জের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনাস্থলের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ আরও বলছে, কারও অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে তদন্তের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ না করে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের উপাদান যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
তবে আব্দুল হাকিমের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও পুলিশের তদন্তের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।।