প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:২৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক কে এই ‘গরু আলম’?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আলম মিয়া ওরফে ‘গরু আলম’ নামের এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী, ঝলঝলিয়া, গাবড়াখালী, কড়ইতলী, আয়নাতলীসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য দেশে আনা হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে ভারতীয় গরু, জিরা, কম্বল, কসমেটিকস, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যও সীমান্তপথে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালানের পাশাপাশি ‘হুন্ডি’ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে ওই সিন্ডিকেট। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন আলম মিয়া। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কতিপয় সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করে চোরাচালানের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের কাছে আলম মিয়া নামের চেয়ে ‘গরু আলম’ নামেই বেশি পরিচিত বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় তাঁর প্রভাব ধরে রেখেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনার মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০ মিনিট পর কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন