ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের মহিরখারুয়া কোনাপাড়া গ্রামে চাচি ও ভাতিজার মধ্যে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মহিরখারুয়া গ্রামের প্রবাসী ছাবেদ মিয়ার স্ত্রী উর্মি আক্তার ও তার ভাতিজা ছাইদুল বেপারির ছেলে আনোয়ার হোসেনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামে একটি দরবার বসানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দরবারে প্রায় ১০-১১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোস্তফা মন্ডল, মনছুর মেম্বার, মজিবুর রহমান, সুজন, রিপন মিয়া, রতন মিয়া, আজিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, আতাবউদ্দিন, মিন্টু বেপারী ও আবদুল করিম শেখের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দরবারের নামে উভয় পক্ষের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ঘটনাটি গোপন রাখার শর্তে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে এ ধরনের মীমাংসায় বাধ্য করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ বিষয়টিকে ‘পারিবারিক’ বলে দাবি করে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের স্পর্শকাতর অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করা গুরুতর অন্যায় এবং এতে ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে গফরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোস্তফা মন্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।।