জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ না করায় ফের আলোচনায় গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন। ভোররাতে অভিযানে টিকিট কালোবাজারি চক্রের এক সক্রিয় সদস্য রিয়াদ আল মাহমুদ কেয়া (২৭) কে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)। তিনি গফরগাঁও উপজেলার দুলাল উদ্দিনের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ২৭ আগস্ট ২০২৫ ইং ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অভিযান চালায় জিআরপি পুলিশের একটি দল। অভিযানের নেতৃত্ব দেন এসআই গোলাম কিবরিয়া। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে রিয়াদ আল মাহমুদ কেয়াকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারের সময় তল্লাশি চালিয়ে রিয়াদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা ১৬টি রেল সেবা আইডি এবং ১ হাজার ৪৫ টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এসব আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে তা সাধারণ যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হতো।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কালোবাজারি টিকিট বিক্রির ঘটনায় গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন জিআরপি থানায় জিডি নং–১৮০ দায়ের করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইন-এর ২৫ (১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় টিকিট কালোবাজারি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আপোষ-মিমাংসার চেষ্টাও করা হচ্ছে, যার ফলে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে জিআরপির এক কর্মকর্তা বলেন, “টিকিট কালোবাজারি যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রকাশ্যে হৃদয়, আইজুল ও মুশফিকদের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি চলতে থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।।